কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে একটি রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে গিয়ে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। নিহত সকলের পরিচয় পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। যমুনা সেতু পূর্বপাড় থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে রড ও যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে কালিহাতীর সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে ট্রাকটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে উলটে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন মারা যান।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
ওসি বলেন, হতাহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নিহতদের পরিচয়
নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন যমুনা সেতু পূর্বপাড় থানার এসআই হান্নান। যাদের পরিচয় জানা গেছে তারা হলেন— নওগাঁর মান্দা থানার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সাকিম মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (২০), একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), রাজশাহীর তানোর থানার বাতানপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার বাসিন্দা নজরুল (৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার বাসিন্দা মামুন (৪৫), কুষ্টিয়া জেলা দৌলতপুর থানার বৈরাগীরচর গ্রামের হাসান আলী (৩৯), নওগাঁর মান্দা থানার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), একই গ্রামের রহিমের ছেলে বাদশা (৩২), মান্দা থানার পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস (২০) ও মাইনুল (২৮), রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), একই গ্রামের সুলতানের ছেলে তারেক (২০), মান্দা থানার পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মাইনুল (৩৮), নিয়ামতপুর থানার রামগা গ্রামের রহমতুল্লাহ ছেলে আলমগীর হোসেন সুজন (২৪) ও নাটোর জেলা লালপুর থানার নরেন্দ্রপুর গ্রামের ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আলম মোল্লা।
তারা সবাই হকার হিসেবে নোয়াখালীতে হরেক মালামালের ব্যবসা করতেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
আহতদের তালিকা
আহতরা হলেন— মান্দার ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), নাটোরের মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন, পাকুরিয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), সিদ্দিক আলী (৪০), পাকুরিয়া গ্রামের ছোরহাব আলী, রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬) এবং ডেমরা গ্রামের শহিদুলের ছেলে সমেজ।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।



