লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাঁশের পিলার বসানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে বিজিবির আপত্তিতে তাদের ওই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কোলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ জিরো লাইনে বাঁশের পিলার বসানোর চেষ্টা করে। বিজিবির তীব্র আপত্তির মুখে পিলারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই এলাকাটি দহগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবিঘা করিডোরের সংলগ্ন।
রংপুর ব্যাটালিয়নের (৫১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, বিএসএফ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে পিলার বসানোর চেষ্টা করে। ঘটনা জানার পর বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অবস্থান নেয় এবং বিএসএফকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। তিনি আরও বলেন, এলাকায় বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিএসএফের তৎপরতা
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৭৪/ভীম বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় জরিপ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পিলার ডিএএমপি ৭/৩০-এস-এর কাছে জিরো লাইন থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে প্রায় তিন ফুট উচ্চতার বাঁশের পিলার বসানো শুরু করে। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে পানবাড়ি কোম্পানি কমান্ডার ১৭৪/ভীম বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডারের কাছে পিলার সরানোর অনুরোধ জানান। কিন্তু বিএসএফ কর্মকর্তারা বলেন, ওপরের নির্দেশে পিলার বসানো হচ্ছে এবং অনুমতি ছাড়া তা সরানো যাবে না।
বিজিবির হস্তক্ষেপ
পরে ৫০-৬০ জন বিএসএফ সদস্য জরিপ কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পুনরায় পিলার বসানোর চেষ্টা করে। দহগ্রাম বিওপি থেকে একটি বিজিবি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বিজিবির বাধার পরও বিএসএফ সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বর্তমানে পিলার বসানোর কাজ স্থগিত থাকলেও ভারতীয় পক্ষের জরিপ কার্যক্রম কিছু সময় অব্যাহত ছিল।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে ১৮ মে একই সীমান্ত এলাকায় পিলার ডিএএমপি ৬/১৬-এস-এর কাছে জিরো লাইন থেকে ১০-২০ গজ ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে ১৫টি বাঁশের পিলার বসানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির হস্তক্ষেপে বিএসএফ সদস্যরা সরে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি
শুক্রবারের ঘটনার পর সীমান্তের উভয় পাশে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডাররা টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনা করেন। আলোচনার পর বিএসএফ তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে। বিজিবি স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে। রংপুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



