থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মুকদাহান প্রদেশে বৃহস্পতিবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১১ বছরের এক বালক তার বাবা-মায়ের পিকআপ ট্রাক নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বৌদ্ধ মিছিলে ধাক্কা দিলে এই প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
মুকদাহান প্রদেশের একটি সড়কের পাশ দিয়ে তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে ৩৫ জন সন্ন্যাসী ও পাঁচজন সাধারণ অনুসারী হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় একটি পিকআপ ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সন্ন্যাসী ফ্রা সোমপং স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের কাছে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “আমি একটি বালককে পিকআপ ট্রাক চালিয়ে আসতে দেখলাম। তখন আমি ‘বুদ্ধো, বুদ্ধো’ (ধ্যানের মন্ত্র) জপছিলাম। হঠাৎ করেই ট্রাকটি পূর্ণ গতিতে এসে আমাদের ধাক্কা দেয়। ভাগ্যক্রমে আমি ও আরেক সন্ন্যাসী সময়মতো লাফিয়ে সরে যেতে পেরেছিলাম। সামনের নয়জন সন্ন্যাসী বেঁচে গেলেও যারা ধাক্কা খেয়েছেন তারা বাতাসে উড়ে গিয়েছেন।”
হতাহতের সংখ্যা ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই পাঁচ সন্ন্যাসী মারা যান এবং হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। মুকদাহান প্রাদেশিক কার্যালয় পরে নবম সন্ন্যাসীর মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চার সন্ন্যাসীর অবস্থা সংকটাপন্ন, ১০ জন গুরুতর আহত এবং আরও অনেকে হালকা চোট পেয়েছেন। পুলিশ মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুতসা সাংবাদিকদের বলেন, “সন্দেহভাজন একজন শিশু। গাড়িটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। আমরা শিশুটির বাবা-মাকে ডেকেছি যাতে শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্ব নির্ধারণ করা যায় এবং আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায়।” থাইল্যান্ডে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো ফৌজদারি দায় নেই।
প্রতিক্রিয়া ও সড়ক নিরাপত্তা বার্তা
মুকদাহানের গভর্নর ওরায়ান বুননারাত বলেছেন, এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যাপক সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। থাইল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ সড়ক নিরাপত্তা রেকর্ডগুলোর একটি, যেখানে দ্রুত গতি, মদ্যপানে গাড়ি চালানো এবং দুর্বল আইন প্রয়োগ প্রধান কারণ। গভর্নর বলেন, “আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক নিরাপত্তায় খুব কঠোর ছিলাম। এই ঘটনা শুধু আমাদের প্রদেশের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একটি শিক্ষা হওয়া উচিত। আমি মনে করি, বিশেষ করে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে, কারণ কেউ চায় না এমন কিছু ঘটুক।”



