ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিচ্ছে না ভারত, বন্দর ব্যবহারের দাবি প্রত্যাখ্যান
ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিচ্ছে না ভারত

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিচ্ছে না ভারত, বন্দর ব্যবহারের দাবি প্রত্যাখ্যান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যার প্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের কঠোর প্রতিবাদ

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যানেল ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে করা দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, 'ভারতীয় বন্দরগুলো মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহার করছে—এই দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমরা এ ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করছি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন দাবি ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের উপদেষ্টা ডগলাস ম্যাকগ্রেগর দাবি করেছিলেন যে, চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করতে পারে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ভারতের কড়া প্রতিবাদ এসেছে।

এই প্রতিবাদের সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিন হামলার ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি জাহাজটি ভারতের আয়োজিত একটি সামরিক মহড়া শেষ করে ফেরার পথেই হামলার শিকার হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ভারতের অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত শুরু হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে। এই আগ্রাসনের পর ইরান হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের সাবেক মিত্র ও ইসরাইলের বর্তমান মিত্র ভারত কোন দিকে ঝুঁকবে—এই প্রশ্নটি উভয় পক্ষের সমর্থকদের ভাবাচ্ছিল। ভারতের এই স্পষ্ট অবস্থান সংঘাত নিরসনে দেশটির নিরপেক্ষ ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতের ভূমিকা পুনর্ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে।