ট্রাম্পের ভাষণে প্রতিবাদ, মুসলিম নারী সদস্যদের দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের দুই মুসলিম নারী সদস্য রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমরকে দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তাঁর বার্ষিক 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' ভাষণ চলাকালীন ওই দুই সদস্য প্রতিবাদ ও চিৎকার করলে তিনি এই দাবি তুলেছেন। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দীর্ঘ বার্তা
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, 'মানুষ যখন এমন আচরণ করতে পারে এবং যখন জানা যায় যে তারা নীতিহীন ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ এবং আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর; তখন তাদের যেখান থেকে এসেছে সেখানেই পাঠিয়ে দেওয়া উচিত—যত দ্রুত সম্ভব।' এই মন্তব্যে তিনি সরাসরি রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইলহান ও রাশিদার নাগরিকত্ব ও আইনগত বাধা
ইলহান ওমরের জন্ম সোমালিয়ায় হলেও তিনি প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিবের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটে, অর্থাৎ তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ফলে ইলহান ও রাশিদার কাউকে তাঁদের পূর্বপুরুষের দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। এই বিষয়টি মার্কিন আইন ও সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
ভাষণকালীন প্রতিবাদ ও উত্তপ্ত মুহূর্ত
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' ভাষণ দেওয়ার সময় রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর বারবার ট্রাম্পের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। হাউস চেম্বার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁরা চিৎকার করে বলেন, 'আপনি আমেরিকানদের হত্যা করেছেন।' এই ঘটনা ভাষণকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং পরবর্তীতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার দিকে নিয়ে যায়।
রাশিদার জবাব ও সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দেওয়া বার্তার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রাশিদা তালিব লিখেছেন, 'দুই মুসলিম নারী প্রতিবাদ করছেন ও তাঁর ভুল সংশোধন করে দিচ্ছেন—এটা তিনি সহ্য করতে পারছেন না। তাই এখন তিনি মেজাজ হারাচ্ছেন।' তিনি #প্রেসিডেন্টমজনুন হ্যশট্যাগ ব্যবহার করেন, যেখানে 'মজনুন' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ 'পাগল'। এই পোস্টে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ফুটে উঠেছে।
ট্রাম্পের অন্যান্য সমালোচনা: রবার্ট ডি নিরোকে আক্রমণ
এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একই বার্তায় ট্রাম্প তাঁর কড়া সমালোচক ও দুবারের অস্কারজয়ী অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোকেও আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ডি নিরো একজন 'অসুস্থ ও উন্মাদ ব্যক্তি; যাঁর আইকিউ অত্যন্ত কম। তিনি কী করছেন বা বলছেন, সে সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই।' এই মন্তব্যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি তাঁর মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং মুসলিম নারী আইনপ্রণেতাদের প্রতি ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি আগামী নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
