ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীর নেতৃত্বে গৌরীপুর পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মানিক মিয়াকে (৪০) ধরে নিয়ে দফায় দফায় পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত মানিক মিয়ার লাশ কবরে রেখে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসির বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অংশ নেয় তার ছেলে আদিব মাহমুদ আলিফ।
পরীক্ষার হলে কান্না
গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে আলিফ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাকে এগিয়ে দিতে এসে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের পানি মুছতে মুছতে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই তিনি বেরিয়ে যান। চোখের পানিতে ভিজে যাওয়া রুমাল রয়ে গেছে তার সেই টেবিলে। সহপাঠী শিক্ষার্থীরা জানান, আলিফকে বারবার চোখের পানি মুছতে দেখেছি।
স্ত্রীর থানায় অবস্থান
স্বামী মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তার স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৌরীপুর থানায় অবস্থান করছিলেন। এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার বিবরণ
পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার সুখ মিয়া (নিহতের ভাই) জানান, তার ভাই মানিক মিয়া মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল আনতে গেলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীর নেতৃত্বে ১৪-১৫ জন মিলে ধরে নিয়ে যায়। এরপর দফায় দফায় তাকে প্রহার-নির্যাতন ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রাতে তার লোকজন এসে মানিকের স্ত্রীকে খবর দেন এবং তার ছেলেকেও নিয়ে যেতে বলেন। তখন শুধু মানিকের স্ত্রী সেখানে যান। তারপর তাকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। রক্তাক্ত স্বামীকে চিকিৎসা নিতে হলে আগে যা বলবে তা বলতে বাধ্য করে।
তিনি বলেন, ‘তার স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’ এই মর্মে আমার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক মোবাইল ফোনে রেকর্ড আদায় করে নেয়। রেকর্ড নেওয়ার পরে তার হাতে অর্ধমৃত ভাইকে তুলে দেয়। এরপর তাকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওদের লোকজন হাসপাতালের রোগীর রেজিস্টার্ড বইতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার কথা লেখায়। তখন আমাদের পরিবারের লোকজন ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বড় ভাই মানিক মারা যান।
তিনি আরও জানান, তাদের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে। মূলত জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তার ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের এসআই জবায়দুল হক জানান, নিহতের স্বজনদের কাছে শুনেছি মানিক মিয়াকে পিটিয়ে আহত করেছে। তবে কী কারণে ভর্তি কাগজে সড়ক দুর্ঘটনা লেখা হয়েছে সেই বিষয়টি বোধগম্য নয়।
যুবদল নেতার বক্তব্য
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এ বিষয়টি শুনেছেন। এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওদের মাদকসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। মাদক ব্যবসার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা-ভিত্তিহীন অপবাদ ছড়াচ্ছে।



