জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীতে এক দিনে দুই দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রথম দফায় সোনাগাজীতে পদযাত্রার উদ্বোধনী মঞ্চে এবং দ্বিতীয় দফায় সন্ধ্যায় ফেনী শহরে দলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়। উভয় ঘটনায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সোনাগাজীতে প্রথম দফার সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে সোনাগাজী উপজেলা চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক পদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মসূচি শুরুর আগে মঞ্চে অবস্থান, নেতাদের বসার স্থান এবং কর্মসূচি পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে মঞ্চে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং অনুষ্ঠান কিছু সময়ের জন্য স্থগিত থাকে।
এরপরে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে পদযাত্রা শুরু হয়। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ফেনী শহরে দ্বিতীয় দফার উত্তেজনা
পদযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় নেতারা ফেনী শহরে পৌঁছালে সেখানে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘিরে অবস্থান নেওয়া এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কবর জিয়ারত ও পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ
এর আগে বিকালে হাসনাত আবদুল্লাহ ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে জুলাই আন্দোলনে নিহত ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের কবর জিয়ারত করেন। তিনি কবর জিয়ারত শেষে দোয়া করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।



