আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মীর মৃত্যুতে বিতর্ক, তদন্ত দাবি
আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মীর মৃত্যুতে বিতর্ক

বরিশাল, ফরিদপুর ও চট্টগ্রামে চার দিনের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের তিন নেতাকর্মী পুলিশি অভিযানের সময় মারা গেছেন। পরিবার ও রাজনৈতিক সমর্থকরা এসব মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিচার দাবি করেছেন। ফরিদপুরে এ ঘটনায় বিক্ষোভ হয়েছে।

চট্টগ্রামে জুবো লীগ নেতার মৃত্যু

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। ধেমশা ইউনিয়ন জুবো লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলম চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এর আগের দিন একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকালে নুরুল অসুস্থ বোধ করলে তাকে জেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমসিএইচে রেফার করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু সনদে শ্বাসযন্ত্রের জটিলতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিবার এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তারের পর 'পরিকল্পিতভাবে হত্যা' করা হয়েছে।

ফরিদপুরে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু ও বিক্ষোভ

এর আগে রোববার ফরিদপুরের মধুখালীতে ছাত্রলীগ কর্মী মিরزا ইশতিয়াক আহমেদের মৃত্যু হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটকের পর এই মৃত্যু ঘটে। পরিবারের দাবি, শনিবার বিকেলে ইশতিয়াককে তার মায়ের সামনেই পিটিয়ে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় মধুখালীতে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধ করে রাখে। পরে পরিবারের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ফরিদপুর ডিবি সদর জোনের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে 'প্রশাসনিক কারণে' প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বরিশালে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

একই দিন রোববার বরিশালে আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ড নং ১ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মেনন পুলিশের অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাশেদ ছাদে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে লাফ দিতে গিয়ে পা ফসকে মাথায় আঘাত পান এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ ফিরে আসে। পরে তার মৃত্যুর খবর পায় তারা।

পুলিশি অভিযান ও বিতর্ক

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর দেশজুড়ে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে অভিযান ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুইটি ঘটনায় পরিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনেছে। কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাগত কারণ, মৃত্যুর কারণ প্রকাশ না করা বা গ্রেপ্তার এড়াতে গিয়ে মৃত্যু—এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে। কোনো ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্বাধীন তদন্তের ঘোষণা আসেনি।