দামুড়হুদায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ, পুলিশ মোতায়েন
দামুড়হুদায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ, পুলিশ মোতায়েন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের আয়োজিত প্রশিক্ষণশালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি মিছিল বের করেন। এসময় জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘লাঠি মিছিল’ করেন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত

দলীয়, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে ভাড়া নিয়ে প্রশিক্ষণশালার আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা। ঘটনা জানাজানি হলে সেদিন দুপুরের দিকে দুপক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নারী কর্মীদের মসজিদ থেকে বের করে আনে প্রশাসন। এই ঘটনার জেরে দামুড়হুদা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মো. সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মন্টু মিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে রোববার সকালে সুমন মিয়াকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দের ঘটনা ঘটে।

পাল্টাপাল্টি মিছিল

শিবিরের সাবেক নেতাকে মারধরের ঘটনা জানাজানির পর রোববার সন্ধ্যায় দামুড়হুদা শহরে লাঠি মিছিল বের করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল শহরে পাল্টা মিছিল বের করলে পরিস্থিতি উতপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমান দামুড়হুদা চৌরাস্তা মোড়ে বক্তব্যে বলেন, "সবাইকে থামতে হবে। আইনি ব্যবস্থা যা হয় তা করতে হবে।" এসময় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের বক্তব্য

দুদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "মডেল মসজিদের সভাপতি আমি। কেয়ার টেকার মো. শাহজাহান আমাকে না জানিয়ে কীভাবে মসজিদ কক্ষ ব্যবহার করতে দিল- সেটাই তো বুঝলাম না। আপনারা উভয়দল শান্ত হোন, আইন হাতে তুলে নিবেন না। আমাদের একটু কাজ করতে দিন।"

বিএনপির অবস্থান

দামুড়হুদা জেলা বিএনপির সেক্রেটারি মো. রফিকুল হাসান তনু বলেন, "প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে মডেল মসজিদে একটি রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীরা তাদের কার্যকলাপ চালায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয়। আবার আমাদের নেতা কর্মীদের নিয়ে বাজে কথা বলে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত হতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে শহরে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"

পুলিশের বক্তব্য

দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজাদ রহমান জানান, "শিবিরের সাবেক এক কর্মী পুলিশের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"