ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামের বিআরএকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার (১২ জুলাই) ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে একসঙ্গে দুটি পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিন ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায়। পরীক্ষা শুরুর আগে সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন তার কাছে পরীক্ষার ফি চান। রাফিন ফি আনেনি জানালে শিক্ষিকা তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যান।
প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম ফি না দিলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে রাফিনকে বের করে দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার সকালে স্কুলের শিক্ষকরা রাফিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। ওই দিন ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার পাশাপাশি তাকে আগের পরীক্ষাটিও দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
অভিভাবকের অভিযোগ
ওই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ওই দিন তার নাতিকেও পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছিল না। পরে তিনি স্কুলে গিয়ে নাতিকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে একই কারণে রাফিনকে বের করে দেওয়া হলে সে স্কুল থেকে চলে যায়।
রাফিনের বাবা চঞ্চল হোসেন বলেন, 'আমি ছেলের পরীক্ষার ফি দিতে পারিনি। যে কারণে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা দিতে না দিয়ে আমার ছেলেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরে রোববার স্যাররা বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে নিয়ে গেছেন। শুনেছি একসঙ্গে আমার ছেলের দুটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে ওই প্রধান শিক্ষক এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।'
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম বলেন, 'বিদ্যালয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাফিন নামের ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।'
শিক্ষা কর্মকর্তার পদক্ষেপ
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ খান বলেন, 'বিষয়টি জানার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে নিয়ে এসে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে বিদ্যালয়ে যাব।' তিনি আরও জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



