বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে গাইবান্ধায় শিবির নেতা নিহত
বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে শিবির নেতা নিহত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় এক শিবির নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরেক শিবির কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

নিহত সাইফুল্লাহ বারী উপজেলার শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে রোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। সবাই চলে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায় যুবদল নেতা মুকুল মিয়া, তাঁর ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল, জব্বারসহ ১০-১৩ জন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলা ও হাসপাতালে নেওয়া

হামলাকারীরা সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় সাইফুল্লাহ এগিয়ে এলে তাঁকে ধাওয়া করে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় ফেলে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম জড়িত।’

বিএনপির বক্তব্য

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী হত্যায় বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।’

পুলিশের অবস্থান

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। কাউকে আটক করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে।’