ঢাকার সাভারে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর দুলাভাই স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে যাদের নাম
অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির, তার সহযোগী মানিক, সজিব, আলাউদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সামিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীর অবস্থা
ভুক্তভোগীর দুলাভাই স্বপন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, 'রিপনকে এতটাই নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে যে তার দুই চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।'
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সি কয়েকজনের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্থানীয় এক কিশোরের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই কিশোরের বড় ভাই সামির ক্ষুব্ধ হন। পরে সামির ও তার সহযোগীরা রিপনকে খুঁজতে শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন বিকালে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকায় রাজধানী বেকারির সামনে থেকে রিপনকে ধরে সামিরের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার মাথা দেয়ালে আছড়ে মারার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে দুই চোখে আঘাত করা হয়। এতে রিপনের দুই চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ বলেন, 'ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'



