জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেছেন, সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ পূরণে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। আজ রোববার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
শূন্য পদ পূরণের সময়সীমা
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে।
মোট শূন্য পদের সংখ্যা
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবলসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে মোট শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে (১ম-৯ম) ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, ২য় শ্রেণিতে (১০ম-১২তম) ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ৩য় শ্রেণিতে (১৩তম-১৬তম) ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, ৪র্থ শ্রেণিতে (১৭তম-২০তম) ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য (অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক) ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
বিচারকের শূন্য পদ
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন কর্মরত আছেন। শূন্য পদে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নতুন আদালত প্রতিষ্ঠা
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত, ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। নব প্রতিষ্ঠিত আদালতের বিপরীতে বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
পারিবারিক আদালতে মামলা
সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে পারিবারিক আদালতসমূহে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৩০টি। পারিবারিক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সারা দেশে ১৬৩টি পারিবারিক আদালত ও ৬৫টি পারিবারিক আপিল আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
আইনমন্ত্রী জানান, তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা হয়েছে, সে-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার জন্য কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।



