পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতা ইউসুফ আলীর নির্যাতনে জামিল হোসেন (৫০) নামে এক কৃষি শ্রমিক মারা গেছেন। শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রাম থেকে ওই কৃষকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন।
নিহতের পরিচয় ও পেশা
নিহত কৃষক জামিল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি শ্রমিক ছিলেন এবং মৌসুমে ভাটি অঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করতেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কৃষি শ্রমিক জামিল হোসেন তার এক জামাতা ও চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘর ভাড়া নিয়ে ছিলেন।
নিহতের জামাতা আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, শনিবার (২০ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী আমার শ্বশুরকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। কাজ করতে কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে তাকে বেদম মারধর করেন এবং জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যান এবং আহত অবস্থায় সেখানে তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করাতে বাধ্য করেন জামিল হোসেনকে।
তিনি (নিহতের জামাতা) জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যায় তারা ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন এবং বাসায় এসেই জামিল হোসেন বেশ অস্বস্তিবোধ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। জামাতা আরও জানান, তার শ্বশুর জামিল আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। নির্মম মারধরের কারণে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান
ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউসুফ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাননি। তবে ইউসুফ আলীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া ও আইনগত ব্যবস্থা
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে খোঁজখবর নিচ্ছেন। ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য রোববার পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



