ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতার কারণে চাপে পড়েছেন। দেশে-বিদেশে ইসরায়েল ও তার সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে। এমনকি ইসরায়েলের অধিকাংশ মানুষ চান, নেতানিয়াহু রাজনীতি থেকে বিদায় নিন।
জরিপে উঠে এলো জনমত
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর এক জরিপে এই মনোভাব ফুটে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ইসরায়েলিদের ৫৯ শতাংশ মনে করেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত। আসছে শরতে ইসরায়েলের পরবর্তী নির্বাচনে তাঁর আর অংশ নেওয়া উচিত নয়।
জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ ইসরায়েলি পরবর্তী নির্বাচনে লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহুর অংশগ্রহণকে সমর্থন করেছেন। ৮ শতাংশ কোনো মতামত জানাননি।
নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসন
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ইসরায়েলের ক্ষমতায় রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে পুনরায় সরকারপ্রধান হন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা দায়িত্ব পালন করেন। সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান।
সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপ
ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন ও ইরানে নির্বিচার হামলার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নেতানিয়াহু দেশে-বিদেশে সমালোচিত হচ্ছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত বুধবার সমঝোতা স্মারকে সই করেন। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষ সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনায় বসছে।
সমঝোতার শর্ত ও ইসরায়েলের অবস্থান
সমঝোতার অন্যতম শর্ত হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। ইসরায়েল শুরুতে তা মানতে চায়নি। অবশেষে গত শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে এরপরও লেবাননে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত একদিনে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছে, শনিবার আরও ১২ জন নিহতের খবর রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে ইসরায়েল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা নস্যাৎ করতে চাইবে। নেতানিয়াহুসহ উগ্র ইহুদিবাদী নেতারা লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখতে চান।



