শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বড় পর্দায় খেলা দেখা নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী আশরাফুল ইসলাম আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় খেলা দেখার সময় আইপিই বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস এবং শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের মধ্যে খেলা দেখা নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করে দেন।
পরবর্তীতে ওই ঘটনা নিয়ে তারেক রহমান কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকে সঙ্গে নিয়ে নাফিস ও তার বিবিএ বিভাগের কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে পুনরায় তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সংগঠনটির সহ-অর্থ সম্পাদক ও আইপিই বিভাগের শিক্ষার্থী কাফি কাওসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি তার সহপাঠী নাফিসের পক্ষে কথা বললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা ও প্রক্টরের হস্তক্ষেপ
এতে ছাত্রদল কর্মী আশরাফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এসময় ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ছাত্রদলের দুই পক্ষকেই প্রক্টর কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে পলিটিক্যাল স্টাডিজ, আইপি ও বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হলে ফের উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করেন।
এসময় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সোহাগ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আদনানমোহনসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
আহত শিক্ষার্থীর বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহত শিক্ষার্থী আশরাফুল বলেন, ‘খেলা দেখে প্রধান ফটকের দিকে গিয়ে দেখি ছাত্রদলের কাফিকে আমাদের ছাত্রদলের বন্ধু তারেক ও হাসিব কিছু বুঝাচ্ছিল। কিন্তু সে (কাফি) সম্ভবত মদ্যপান করার কারণে মাদকাসক্ত ছিল। আমি সেখানে গিয়ে তাকে বুঝাতে চাইলে সে আমাকে বলে আপনি কে? এক পর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, কিল-ঘুষি মারে। ফলে আমার মাথা ফেটে যায়।’
অভিযোগের জবাব ও প্রক্টরের মন্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের সহ-অর্থ সম্পাদক কাফি কাওসারকে একাধিকবার কল দিলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, ‘একসাথে চলতে গেলে মতের অমিল হতেই পারে। কথা কাটাকাটি হতেই পারে। কয়েকজনের মধ্যে একটা ছোট ঝামেলা হয়েছিল। আমরা প্রক্টর স্যারের উপস্থিতিতে বিষয়টির সুন্দর সমাধান করেছি। সকল পক্ষই এতে সন্তুষ্ট।’
এ বিষয়ে জানতে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোকলেসুর রহমানকে কল দিলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা প্রাথমিক একটা মিমাংসা করে দিয়েছি। তবে যদি আর কোন অভিযোগ না থাকে তাহলে এটা এখানে শেষ হবে।’ ছাত্রদল নেতা কাফি কাওসার মাদকাসক্ত ছিল কি না এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা ডোট টেস্ট করব। যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’



