ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম: ভোটকেন্দ্রের টাকা ফেরত, বিতরণ বাকি
ভূরুঙ্গামারী শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম: ভোটকেন্দ্রের টাকা ফেরত

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য উত্তোলিত বরাদ্দের অর্থ পাঁচ মাস পর সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, পিইডিপি-৪ ও স্লিপ প্রকল্পের অর্থও বিতরণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে।

ভোটকেন্দ্র মেরামতের অর্থ ফেরত

গত সংসদ নির্বাচনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম ভোটহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় দুটিকে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। পরে গত ৬ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর উপস্থিতিতে ওই ২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন তিনি।

পিইডিপি-৪ ও স্লিপ প্রকল্পের অর্থ বিতরণ

শুধু ভোটকেন্দ্রের টাকাই নয়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের পিইডিপি-৪ ও স্লিপ প্রকল্পে উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওই টাকা উত্তোলন করে নিজ অ্যাকাউন্টে রাখেন। পরবর্তীতে তিনি উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিকে ১২ হাজার টাকার চেক (ভ্যাট কর্তন করে) প্রদান করেন। অন্য ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি টাকা প্রদান বন্ধ রাখেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবাদ প্রকাশের পর পদক্ষেপ

গত ২ জুলাই যুগান্তরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নড়েচড়ে বসে। পরে গত ৫ জুলাই অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে ১০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বিতরণ করেন। ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল-মাহমুদ জানান, ‘আমাদের স্লিপের টাকার চেক ৫ জুলাই প্রদান করা হয়েছে।’

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম জানান, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে পরামর্শ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভোটকেন্দ্র) মেরামতের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্লিপের টাকা প্রদান ও ভোটকেন্দ্র মেরামতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।