চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শাহজালাল হলের সামনে দুই দফায় এ মারামারি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে শহীদ মিনার এলাকায় বড় পর্দায় ব্রাজিল বনাম জাপানের ফুটবল ম্যাচ দেখার আয়োজন করা হয়। সেখানে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশান ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসেন। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে মারামারিও হয়। দিশানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।
দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ
সোমবারের ঘটনার জের ধরে গতকাল রাতে শাহজালাল হলের সামনে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনের ওপর হামলা করেন দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থী। হামলার পর তাঁরা শাহজালাল হলে ঢুকে যান। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় শাহজালাল হলে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক শিক্ষার্থী ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমানকে মুঠোফোনে কল করে তাঁদের উদ্ধারের অনুরোধ করেন। উলফাতুর রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে অন্য জায়গায় নিয়ে যান। এ খবরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উলফাতুর রহমানের ওপর ক্ষুব্ধ হন। ছাত্রদলের একাধিক নেতা মুঠোফোনে কল দিয়ে উলফাতুরকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে উলফাতুর ঘটনাস্থলে এলে তাঁর ওপরও হামলা করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রাতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া কর্মরত সাংবাদিকদেরও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
ছাত্রদল নেতার বক্তব্য
জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার দিশান খেলা দেখার সময় ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে ধূমপান করছিলেন। তিনি এতে বাধা দিয়েছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল রাতে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী তাঁর ওপর হামলা করেন। মামুন বলেন, ‘আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি কাউকে মারধর করিনি।’
দিশানের বক্তব্য
তবে ধূমপানের বিষয়টি অস্বীকার করেন ইফতেখার দিশান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সোমবার রাতে কোনো কারণ ছাড়াই মামুন আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর কারণে আমাকে মারধরও করা হয়েছে।’ দিশান বলেন, গতকাল রাতে তিনিসহ কয়েকজন শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে ওই ঘটনার রেশ ধরে তাঁর সঙ্গে মামুনের আবার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। একপর্যায়ে মামুনের সঙ্গে হাতাহাতি হয়।
উলফাতুরের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উলফাতুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল এক শিক্ষার্থীকে শাহজালাল হল থেকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিয়েছিলাম। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন আমাকে শাহজালাল হলের সামনে ডেকে নিয়ে গলা চেপে ধরে মারধর করেছে। আমি কোনো অপরাধ করিনি। কোনো কারণ ছাড়াই আমার ওপর এ হামলা হয়েছে। আমার মোটরসাইকেলের চাবিও তাঁরা নিয়ে গেছে।’
চিকিৎসা ও প্রক্টরের বক্তব্য
আহত মামুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর উলফাতুরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আল মামুনের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাঁর মাথা ফোলা ছিল। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘খেলাকেন্দ্রিক মতবিরোধ থেকেই দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উভয় পক্ষকে আলোচনায় ডাকা হবে।’



