বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য বিএনপি-জামায়াতপন্থি শীর্ষ আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ৩০ দিনের মধ্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন চাওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অ্যাডহক কমিটি স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিট দায়েরের বিবরণ
বুধবার (১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট দায়ের করেন। রিটে আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী বলেন, 'অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া আইনসম্মত নয়, তাই এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছে।'
অ্যাডহক কমিটি গঠন
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য বিএনপি-জামায়াতপন্থি শীর্ষ আইনজীবীদের নিয়ে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে জামায়াতের দুজন শীর্ষ আইনজীবী ও এনসিপির একজন আইনজীবীকে রাখা হয়েছে।
অ্যাডহক কমিটিতে পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান থাকবেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, এএইচএম মুশফিকুর রহমান তুহিন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, নাসির উদ্দিন অসীম, সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলী আসগর, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন। তারা সবাই বিএনপিপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
জামায়াতের দুই আইনজীবী হলেন: অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এনসিপি থেকে অ্যাডহক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন লিপু।
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত
মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর আর্টিকেল ৪-এর ক্লজ (২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অ্যাডহক বার কাউন্সিল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।



