কুবিতে জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিন স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান
কুবিতে জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিন স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন

জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লার যাত্রার প্রথম দিন স্মরণে এবং আন্দোলনে শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মোমবাতি প্রজ্বালন ও দ্রোহের গান পরিবেশন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শনিবার (৪ জুলাই) প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

এ সময় উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য ও জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, কুবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির অন্যতম সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া, আহমেদ আব্দুল্লাহ তারেকসহ অন্যরা।

স্লোগান ও প্রতিবাদ

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’, ‘সাঈদ-ওয়াসিম-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘চব্বিশের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘খুনি হাসিনার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রদ্ধা নিবেদন

কুবি জাতীয় ছাত্রশক্তির সমন্বয়ক নাঈম ভুঁইয়া বলেন, ‘কুবি তথা কুমিল্লার জুলাই যাত্রার সূচনা ৪ জুলাই। তাই আজকের দিনের প্রথম প্রহরে কুবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আমরা মোমবাতি প্রজ্বালন ও দ্রোহের গান আয়োজন করি। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ভাইকে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই সব সাহসী সহযোদ্ধাদের, যারা জুলাই আন্দোলনে হাত, পা কিংবা চোখ হারিয়েছেন অথবা ছোট-বড় নানা ধরনের আহত হয়েছেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, ‘স্মরণ করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, বিশেষ করে, ১১ জুলাইয়ে আমাদের ঢাল হয়ে আসা প্রতিরোধকারী নারী শিক্ষার্থীদের। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সব পরিবারকে, যারা সংকটময় সময়ে আমাদের আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন। বিশেষভাবে স্মরণ করছি দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের, যাদের অবদানও ছিল অনন্য ও অতুলনীয়। জুলাইয়ের স্প্রিট টিকে থাকুক জনম জনম। ফ্যাসিবাদী শক্তি বিলোপে প্রজন্মের পর প্রজন্ম জেগে উঠবে জুলাই উদ্দীপনায়।’

নেতাদের বক্তব্য

জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলনে সাহস জুগিয়েছেন, পুলিশ গুলি চালালেও তারা দমে যাননি। বরং তারা পুরো দেশের কাছে বার্তা দিয়েছেন যে, এই লড়াই পুরো রাষ্ট্রের, জনগণের, সব শ্রেণির-পেশার মানুষের এবং সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। জুলাই কোনও রাজনৈতিক দলের না, এটি আপামর জনতার। জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আমরা যেন জুলাইকে স্মরণ করি এবং সেই চিন্তা থেকেই যেন দেশের স্বার্থে কাজ করি।’