জাতীয় হত্যা মামলার আসামিসহ বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়নে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ওসিকে বিভিন্ন জেলায় বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
পদায়নের তালিকায় চমক
পুলিশ সদর দফতর থেকে জারি করা পদায়ন তালিকায় দেখা গেছে, কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা জাতীয় হত্যা মামলার আসামি। এছাড়া দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত আরও কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
এ ধরনের পদায়নে পুলিশের নিম্ন ও মধ্য স্তরের সদস্যরা ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, অপরাধী ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন সংস্থাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে পুলিশের শৃঙ্খলা ও মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'এ ধরনের পদায়ন পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। যারা আইন ভঙ্গ করেছে, তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।'
প্রশাসনের অবস্থান
পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, পদায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ অধিকাংশ পুলিশ সদস্য। তারা বলছেন, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়নে সংস্থাটির ভেতরে বিভেদ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, আইন নিজেই যখন অপরাধীদের আশ্রয় দেয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যায়।
ভবিষ্যৎ পরিণতি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদায়নের ফলে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি হতে পারে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রতিবাদের রূপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে অসন্তোষের আগুন জ্বলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত এসপি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। তবে পুলিশ প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়নি।



