প্রেমের টানে হিন্দু তরুণীর ধর্মান্তর, প্রেমিক কারাগারে
প্রেমের টানে হিন্দু তরুণীর ধর্মান্তর, প্রেমিক কারাগারে

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের টানে এক হিন্দু তরুণী স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করে প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। তবে সেই সংসার টেকেনি বেশি দিন। অপহরণ ও ধর্মান্তরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রেমিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা।

প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে

জানা গেছে, উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বশির সরদারের ছেলে মো. তামিম হাসানের সঙ্গে পাশের ফলাঘর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র সাহার মেয়ে প্রিয়ন্তী রানী সাহার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অমতে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে তরুণী স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন জান্নাতি ইসলাম। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩ মে স্থানীয় এক কাজির মাধ্যমে দুই লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

পুলিশের অভিযান ও গ্রেফতার

এ ঘটনার পরদিন তরুণীর পরিবার বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত ৭ মে ওই তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করে। এ সময় তামিমকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে তরুণী জান্নাতি ইসলামকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তরুণীর বক্তব্য

এ ঘটনার পর প্রিয়ন্তী রানী সাহা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে শুক্রবার লাইভে বলেন, আমি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তামিমকে বিয়ে করেছি। আমি যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক, তাই কাকে বিয়ে করব, কোন ধর্ম গ্রহণ করব, সেটা আমার অধিকার। রাষ্ট্র আমাকে সেই অধিকার দিয়েছে। আমার পরিবার নির্দোষ পরিবারকে হয়রানি করছে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, যেন তাদের হয়রানি করা না হয়।

পরিবারের অভিযোগ

তরুণীর বাবা প্রদীপ চন্দ্র সাহা অভিযোগ করেন, আমরা মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জানতে পারি তাকে নিয়ে বিয়ে করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেমিকের পরিবারের বক্তব্য

তামিমের বাবা বশির সরদার বলেন, ছেলে-মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে আমি মেয়ের পরিবারকে জানিয়েছিলাম। আমি চাইনি তারা পালিয়ে বিয়ে করুক। তবে পরে শুনেছি তারা বিয়ে করেছে। এখন আমার ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। এখানে কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। তাকে ফাঁসানোর জন্যই মামলা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের মতামত

স্থানীয় বাসিন্দা সালাম মল্লিক বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে প্রেমের বিয়ে বলছেন, আবার কেউ পরিবারের অমতের কারণে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন।

রঙ্গশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন শিকদার বলেন, দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক। তবে ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. আদিল হোসেন বলেন, মামলার পর তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তরুণকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।