জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টার: বাণিজ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা
জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টার: বাণিজ্য ও সংস্কৃতির মিলন

মুম্বাইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টার ভারতের সবচেয়ে বড় কনভেনশন সেন্টার। টিভিএস স্টুডিওর নকশায় নির্মিত এই ভবনের শৈলী আন্তর্জাতিক হলেও এতে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিকতার এক বলিষ্ঠ ছাপ রয়েছে। একাধিক উচ্চমানের শৈল্পিক মোজাইক আবরণের মাধ্যমে ব্যবসা ও বিনোদনের জন্য নিবেদিত এই অসাধারণ স্থানটি মুম্বাই শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

নীতা আম্বানির পরিকল্পনায় নির্মিত

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সন নীতা আম্বানির পরিকল্পনায় নির্মিত এই কেন্দ্রটি ১৮.৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এই কমপ্লেক্সেই মুম্বাইয়ের অধিকাংশ নামকরা নায়ক-নায়িকারা শপিং করতে আসেন। শপিংমলটি সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত, কিন্তু খুব সহজেই ভিড় এড়িয়ে মুম্বাইয়ের ফিল্ম স্টাররা আসা-যাওয়া করতে পারেন। তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে সাধারণ ক্রেতা-দর্শনার্থী বুঝতেই পারেন না তারা কখন আসে বা যায়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিফট

এই সেন্টারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিফট রয়েছে, যে লিফটে একসঙ্গে প্রায় ৩০০ জন মানুষ উঠানামা করতে পারে। লিফটটিতে উঠলে মনে হয় ছোটখাট একটি হলরুমে প্রবেশ করছেন। ভেতরে বসার জন্যও স্থান রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এশিয়ার বৃহত্তম পিলারবিহীন হল

একইসঙ্গে সেন্টারটিতে পিলারবিহীন হলরুম রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়। একসঙ্গে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ হলরুমটিতে বসতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার

সেন্টার ঘিরেই রয়েছে 'নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার', যা বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্প প্রদর্শনের একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বিশাল প্রদর্শনীর স্থান, আর্ট হাউস থেকে শুরু করে ওরিয়েন্টাল সংগ্রহের শৈল্পিক মোজাইক দিয়ে তৈরি একটি সজ্জিত এলাকা রয়েছে, যেখানে সোনালি টেসেরা এবং ধাতব প্রতিবিম্ব রয়েছে। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত থিয়েটারটির জন্য ব্যালকনিগুলোর আচ্ছাদন আর্টিস্টিক মোজাইক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সোনালি ও লাল টেসেলা দিয়ে বিশেষভাবে একটি নকশা সৃষ্টি করা হয়েছে।

ফাউন্টেন অফ জয়

স্কোয়ারটির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন 'ফাউন্টেন অফ জয়'। ৩৪ মিটার ব্যাসের এই পদ্ম-আকৃতির কাঠামোটি থেকে ১৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু জলের ধারা বের হয় এবং এতে রয়েছে ৬৬৪টি রঙিন এলইডি বাতি, যা আলোর অবিশ্বাস্য খেলা তৈরি করে। ঝর্ণাটি ইরিডিয়াম কালেকশনের নীল রঙের বিভিন্ন শেডের মোজাইক দিয়ে সজ্জিত এবং এর চারপাশে একটি সোনালি মোজাইকের বর্ডার রয়েছে। ভারতের জনপ্রিয় গানের তালে 'ফাউন্টেন অফ জয়' এলাকায় শত শত ক্রেতা-দর্শনার্থী ভিড় জমান। বিনামূল্যে সাধারণ মানুষও তা উপভোগ করেন।

উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

জানা যায়, জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারটির উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ইভেন্ট ম্যানেজারের বক্তব্য

সেন্টারটির ইভেন্ট ম্যানেজার সৈকত মিশ্র জানান, জিও ওয়ার্ল্ড সেন্টার এমন একটি সেন্টার যেখানে ভারত ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠের মিলন ঘটে। এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের একত্রিত হওয়ার এবং ভারতের অগ্রগতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। এ সেন্টারে পিলারবিহীন একাধিক হলরুম রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়। একসঙ্গে ওই হলরুমে ১৮ হাজারের বেশি লোক বসতে পারে। এ প্রতিষ্ঠানটি তৈরিতে অধিকাংশ ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ সেন্টারের অতুলনীয় বিশালতার পেছনে রয়েছে শিল্পকলা, খাদ্য, ফ্যাশন, বিনোদন এবং ধারণা ও বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে নগর পরিমণ্ডলকে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানাধীন

জিও ওয়ার্ল্ড সেন্টার সম্পূর্ণরূপে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানাধীন, যা একটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানি এবং ভারতে কাজ করার জন্য সেরা ২৫টি কোম্পানির মধ্যে অন্যতম। এই অত্যাধুনিক সেন্টারটিতে ভেন্যু কনভেনশন, ব্যবসায়িক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, উৎসবমুখর অনুষ্ঠান, বিবাহ, কনসার্ট, লাইভ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল শোকেস, পুরস্কার বিতরণী, ইনডোর ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং আরও অনেক কিছুর জন্য ভারতের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষভাবে নির্মিত এই অভিজ্ঞতা-কেন্দ্রিক ভেন্যুটি প্রযুক্তি-সমর্থিত রূপান্তরযোগ্য স্থান দিয়ে সজ্জিত, যা ভার্চুয়াল, ফিজিক্যাল এবং হাইব্রিড ইভেন্ট আয়োজন করতে সক্ষম।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রান্নাঘর

জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বৃহত্তম রান্নাঘর, যেখানে প্রতিদিন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের খাবার প্রস্তুত করার সক্ষমতা রয়েছে। কনভেনশন সেন্টারের অভ্যন্তরে ভারতের বৃহত্তম পার্কিং, যেখানে ৫,০০০ গাড়ি রাখার ক্ষমতা রয়েছে।