নোয়াখালীতে যুবদল নেতার গুদাম থেকে ৬০ লাখ টাকার চোরাই কাপড় উদ্ধার
নোয়াখালীতে যুবদল নেতার গুদাম থেকে চোরাই কাপড় উদ্ধার

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার এক যুবদল নেতার গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাইকৃত গার্মেন্টস কাপড় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এসআই মহিউদ্দিন রাজু।

গ্রেফতার ও উদ্ধার

গ্রেফতার হওয়া আবুল বাশার উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। উদ্ধার করা কাপড়ের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এসআই মহিউদ্দিন রাজু জানান, সোমবার (৪ মে) দুপুরে সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার এবং হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের আজিমনগর টিনের মসজিদ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে 'কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড' কর্তৃক আমদানিকৃত ১৬৩টি কাপড়ের বান্ডিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কাভার্ডভ্যানে তোলা হয়। সেগুলো গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় নেওয়ার জন্য হালিশহরের আব্বাসপাড়া টোল এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে রাখা হয়। পরে ২৫ এপ্রিল ভোররাতে চালকের সহায়তায় একটি চক্র কাভার্ডভ্যানসহ কাপড়গুলো আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে কাভার্ডভ্যান চালক হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন এবং বিএনপি নেতা বাশারের নেতৃত্বে কাপড়গুলো নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জড়িতদের ভূমিকা

সেখানে হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও হাতিয়া উত্তর শাখা তাঁতী দলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিলের যোগসাজশে কাপড়গুলো দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একাংশ বয়ারচরের একটি ঘরে এবং অপর অংশ সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার গুদামে সংরক্ষণ করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও অভিযান

এ ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় মামলা করা হয়। মামলার সূত্র ধরে চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের একটি দল নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত কাপড়সহ আবুল বাশারকে গ্রেফতার করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এত বড় পরিমাণ কাপড় পরিবহণ ও সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তাদের দাবি, এ ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকলেও তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার

অভিযোগ অস্বীকার করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ইব্রাহীম খলিল বলেন, কাভার্ডভ্যান চালক সুমন আমার বাড়ির পাশের বাসিন্দা। তাই তার অনুরোধে আমি বাশারকে একটি ঘর ভাড়া দিয়ে সহায়তা করি। তবে সেখানে চোরাই কাপড় রাখা হয়েছিল—এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা জানান, তিনি গুদামটি ভাড়া দিয়েছেন, তবে সেখানে কী রাখা হয়েছে তা তার জানা ছিল না।

উদ্ধার পরিমাণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এসআই মহিউদ্দিন রাজু জানান, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের মধ্যে চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার থেকে ৯৬টি এবং হরণী ইউনিয়ন থেকে ৬৭টি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার বাশারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।