প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, বাকস্বাধীনতার একটি নির্দিষ্ট সীমা ও অর্থ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার বা অশোভন আচরণ কি বাকস্বাধীনতা?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: আত্মপরিচয়ের উত্তরাধিকার' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। 'কমল কুঁড়ি' আয়োজিত এই সভায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম ও জীবন নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মসূচি
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। গত দুই মাসে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খতিবদের সম্মানি প্রদান, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো নানা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাকস্বাধীনতার সীমা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, একজন সংগ্রামী ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অবজ্ঞাসূচক বা আক্রমণাত্মক ভাষায় সমালোচনা করা দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অশ্রাব্য ভাষা, শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, প্রপাগান্ডা, অপপ্রচার বা ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর উপস্থিতি কি বাকস্বাধীনতার অংশ? বাকস্বাধীনতা বলতে তিনি ন্যায্য, ন্যায়সংগত, সত্য ও সঠিক বিষয় বোঝান।
ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান
মাহদী আমিন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ নামে ও পরিচয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা ও অবস্থান গ্রহণ করুন। অশ্রাব্য বা অশালীন আচরণ কখনোই বাকস্বাধীনতা নয়; বরং বাকস্বাধীনতা মানে মানুষকে সম্মান জানানো এবং দেশের জন্য সত্য ও সঠিক কথা বলা।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। ফ্যাসিবাদ পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বিএনপির রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন রয়েছে এবং সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের ভূমিকা
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। তার গড়া দল বিএনপি সবসময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করেছে ও করবে।
সভায় অন্যান্য বক্তা
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবীবা, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সিনিয়র সহসভাপতি শ্যামল মালুম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ।



