শিবির ফ্যাসিবাদকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে: হামিম
শিবির ফ্যাসিবাদকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে: হামিম

ছাত্রদলের সাবেক নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম বলেছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এবং এটি রুখে দিতে হবে। যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

হামিম বলেন, একটি নির্ধারিত দল গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়েছিল যে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যদি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পায়, তাহলে প্রত্যেকটা ক্যাম্পাস বিএনপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল উত্তপ্ত করে ফেলবে। অথচ সরকার গঠনের দুই মাস পেরোলেও ছাত্রদল কোনো ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলতা তো দূরের কথা, বরং প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে পজিটিভ কর্মকাণ্ডের এক ধরনের ইতিবাচক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

তিনি গভীর পরিতাপের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার একটি মাধ্যম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য দেয়ালিখা ব্যবহার করেছিল। সে দেয়ালিখার এক জায়গায় লেখা ছিল 'ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই'। সেখানে 'ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চাই' কেটে ছাত্ররা লিখেছে 'গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই'। তার প্রতিবাদে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবাদে অস্ত্র নয়

হামিম বলেন, আমরা চাইলে অস্ত্রের পরিবর্তে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েই প্রতিবাদ করতে পারতাম, কিন্তু আমরা সেটি করিনি। তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এবং এটি রুখে দিতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণতান্ত্রিক রাজনীতির আহ্বান

হামিম বলেন, আমরা চেয়েছি প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনোভাবকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে গুপ্ত রাজনীতিকে প্রতিহত করব। তার থেকে বড় কথা, এই ধরনের ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করলে কাদের লাভ, তা বুঝতে হবে। যেহেতু বর্তমান বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দিয়েছে, সুতরাং তারা চায় প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করতে।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের ছাত্রশিবির ছাত্রলীগের সঙ্গে থেকে ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করার জন্য যেভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিল, ঠিক একইভাবে তারা তাদের পুরোনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তারা এখনো চাচ্ছে ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করার মাধ্যমে গুপ্ত রাজনীতির চর্চাকে তরান্বিত করা।

সহনশীলতার আহ্বান

ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, ছাত্রদল এখনো চায় ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে যারা ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন রয়েছে, প্রত্যেকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ মতাদর্শ বাস্তবায়নে পৃথক কর্মসূচি থাকবে। কর্মসূচি শেষে ক্যাম্পাসগুলোতে সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় থাকবে, যা গত ১৭ বছর অনুপস্থিত ছিল। আওয়ামী লীগ সেই সংস্কৃতিকে নষ্ট করেছিল।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে আমাদের প্রত্যেকের মতাদর্শের প্রোগ্রামগুলো ভিন্ন হলেও দিন শেষে আমরা একই টেবিলে বসে দেশের প্রশ্নে সিদ্ধান্তে আসতে পারি, ঐকমত্যে থাকতে পারি। কিন্তু তারা কোনোভাবেই এটা চাচ্ছে না। আমরা ছাত্রদল বারবার নমনীয়তার পরিচয় দিচ্ছি। আমরা চাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক মত থাকবে, সমালোচনা করবে, কিন্তু দিনশেষে একই টেবিলে বসে দেশের স্বার্থে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারি। কিন্তু আমরা দেখেছি, এরকম পরিবেশ বারবার শিবিরের পক্ষ থেকে নষ্ট করা হচ্ছে। তারা ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করার মাধ্যমে দেশকে উত্তপ্ত করতে যাচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদকে বিভিন্নভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

হামিম জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনির্মিত হয়েছে, এখন আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য দুটি। একটি হচ্ছে নীতি-ভিত্তিক রাজনীতি, অর্থাৎ রাষ্ট্রকে বিভিন্ন নীতি দেওয়া, তারুণ্যদীপ্ত নীতি দেওয়া, যার মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব কমবে এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থান পাবে। আরেকটি হলো শিক্ষার্থী কল্যাণ-ভিত্তিক রাজনীতি, অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কল্যাণ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যে সংকট রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় ছাত্রদল তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। আরেকটি বিষয় আমরা প্রাধান্য দেব, সেটি হলো দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রথম বর্ষে শিক্ষাজীবন শুরু করে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা যদি একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ ক্যাম্পেইন করি, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মনজগতে একটি পরিবর্তন আসবে যে, আমি কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিগ্রস্ত হবো না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গঠনের মধ্যে সততা ও মানবিকতা মানুষের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

হামিম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রকে যেমন ভিন্ন নীতি দেওয়া যায়, ঠিক একইভাবে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন করা। এই তিন-চারটি কাজ আমরা মূল অগ্রাধিকার দিয়ে সামনের দিকে আগাবো। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং বিশেষ করে সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে আমরা সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে, ছাত্র রাজনীতি যেমন হওয়া উচিত, তেমন ছাত্র রাজনীতির প্রতিযোগিতা চলছে।