বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে আলোচনা করেই তিনি গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যান্য দলের অনেক বড় নেতারও দল পরিবর্তন করেছেন, তাহলে তিনি কেন বিএনপি করতে পারবেন না?
ফেসবুকে রাশেদ খানের বক্তব্য
শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) হাসান আল মামুনসহ দলটির মূলধারার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার এখনো অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলত্যাগের আগে তিনি আলোচনা করেছেন এবং বিষয়টি সবারই জানা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তীতে দুই দল একসঙ্গে নির্বাচনি জোটও করেছে।
আদর্শিক মিলের কথা
রাশেদ খান বলেন, ‘আমি এমন কোনো দলে যোগদান করি নাই, যে দলের বিরুদ্ধে অতীতে বিষোদগার করেছি। বরং বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের যথেষ্ট আদর্শিক ও মতাদর্শিক মিল রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। এখনো অনেকের সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয় এবং তার বন্ধু মহলের বড় অংশই ওই দলের নেতাকর্মী।
সমালোচনার জবাব
ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, টকশো বা আলোচনায় তথ্য ও যুক্তিতে না পেরে অনেকেই তাকে ‘নব্য বিএনপি’ বলে আক্রমণ করেন। এর জবাবে তিনি লেখেন, ‘অথচ জামায়াতের বর্তমান আমিরও জাসদ ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দুজনেই ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা। অতীতে বিএনপিতেও আমার মতো অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যোগদান করেছিলেন।’
রাশেদ খান বলেন, ‘তাহলে আমি কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করতে পারবো না? নাকি আমার অপরাধ আমার ব্রেইন, আমার স্মৃতিশক্তি, আমার যুক্তিতর্ক?’ তিনি আরও বলেন, গালিগালাজ ও ব্যক্তি আক্রমণ করে তাকে থামানো যাবে না। তাকে থামাতে হলে রাজনৈতিক প্রতারণা বন্ধ করে দেশ ও জনগণের জন্য ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে।
পোস্টের শেষাংশ
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘তাহলে বলা লাগবে না, আমিই আপনাদের প্রশংসা করবো, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, সবার হেদায়েত দান করুন, আমিন।’



