ঝিনাইদহে এনসিপি নেতার ওপর হামলা: ছাত্রদলের ৮ নেতার নামে মামলা
ঝিনাইদহে এনসিপি নেতার ওপর হামলা: ছাত্রদলের ৮ নেতার নামে মামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণ

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোকুল চন্দ্র অধিকারী। মামলার আসামিরা হলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহসভাপতি নয়ন হাওলাদার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, পৌর ছাত্রদলের সহসভাপতি মোবারক হোসেন, পৌর ছাত্রদলের নেতা হাদু ও আরাফাত হোসেন।

বিক্ষোভ ও উত্তেজনা

এদিকে মামলার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মিছিলটি সদর থানার সামনে এলে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় থানার মধ্যে থাকা নাসীরুদ্দীনকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান তারা। তবে ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তারা ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এতে থানার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে নাসীরুদ্দীনসহ নেতৃবৃন্দ। একপর্যায়ে থানার গেট খুলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তারা। পরে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ কর্মীদের শান্ত করে থানার সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলে পুলিশ পাহারায় নাসীরুদ্দীনসহ নেতৃবৃন্দকে নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার ঘটনা

এর আগে শুক্রবার দুপুরে শহরের পুরোনো কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাসীরুদ্দীনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের পাঁচ জন আহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নামাজ শেষে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। নেতাকর্মীদের মারধর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

এ ছাড়া হামলার সময় একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, পরে স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয়।

পুলিশের বক্তব্য

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপি নেতকর্মীরা ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় চলে গেছেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।