সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ও অসংবেদনশীল মন্তব্য করে বারবার সমালোচিত হয়েছেন রাকসু জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মার। কিছুদিন নীরব থাকার পর সম্প্রতি ডাকসু নেত্রী উম্মে সালমার একটি পোস্টে অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে আবার তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ডাকসু কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এক পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেই পোস্টের কমেন্টে রাকসুর জিএস আম্মার লেখেন, 'নিয়ে আসেন আমার জন্য'। এই অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের স্ক্রিনশট দ্রুত সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির এমন মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকে দাবি করেছেন, আম্মারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হোক। ছাত্রদল তাকে 'উন্মাদ' আখ্যা দিয়ে মানসিক চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে এবং তিনি জিএস পদের উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছে।
মন্তব্য মুছে ফেলা
তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বৃহস্পতিবার রাতে আম্মার তার কমেন্টটি ডিলিট করে দেন। তবে ফেসবুকে রাকসু জিএসের কমেন্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সেটি শেয়ার করে নানাবিধ মন্তব্য করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ছবির বিবরণ
স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, ডাকসু নেত্রী উম্মে সালমা এক পাকিস্তানি নারীর সঙ্গে ছবি তুলে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে পোস্ট করেন কয়েক দিন আগে। সম্ভবত চীন সফরের সময় সেই ছবি তোলেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'বাংলাদেশ+পাকিস্তান। ঢাকা ইউনিভার্সিটি+পিকিং ইউনিভার্সিটি'। সেই পোস্টের কমেন্টেই সালাহ উদ্দীন আম্মার বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা ব্যাপক সমালোচনা শুরু করেন। তারা বলছেন, একজন ছাত্র প্রতিনিধির ভাষা কখনই নারীর প্রতি অসম্মান, হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না। এমন মন্তব্য নিঃসন্দেহে নিন্দাযোগ্য ও সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেবে।
ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য
ফেসবুকে আম্মারের সমালোচনা করে রাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন লিখেছেন, 'সাউয়া' জিএসের কাছে নারীরা কি শুধুই ভোগের বস্তু? যে 'সাউয়া-মাউয়া' ছিঁড়ে ফেলার মতো অশ্লীল স্লোগান দিতে পারে, তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য অস্বাভাবিক নয়। রামিসা ধর্ষণ-হত্যা নিয়ে যখন পুরো দেশ এখনও শোকাহত ও আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত, তখন একটি দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে ধর্ষণকে উসকে দেওয়া আম্মারের এমন মন্তব্য নিঃসন্দেহে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন ছাত্র প্রতিনিধির ভাষা কখনই নারীর প্রতি অসম্মান, হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না। নিন্দা করছি এমন মন্তব্যের।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শেখ নূর উদ্দীন আবীর লেখেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের বোনেরা যেভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন, বারবার তাদের (শিবির) দিকেই আঙুল গেছে। তাদের সাহস এত বেড়েছে যে, তারা এখন নিজেদের আইডি দিয়েই বিভিন্নভাবে সাইবার বুলিং চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিজেদের মধ্যে ডাকসু-রাকসুর যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, এখন দেখা যাচ্ছে তাদের নেত্রীরাই তাদের কাছে নিরাপদ না। আসলে তাদের শিরায় শিরায় সাইবার বুলিং আর নারীদের অসম্মানের সংকল্প প্রবাহমান।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
ডাকসু নেত্রীর পোস্টে করা আম্মারের মন্তব্যের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম লেখেছেন, এরাই আবার নারীর নিরাপত্তা চেয়ে ঝটিকা মিছিল করে। ন্যূনতম লজ্জা-শরম নাই, কোথায় কী কমেন্ট করতে হয় সেটাও জানে না।
ছাত্র অধিকার পরিষদের রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ আম্মারের কমেন্টের স্কিনশটটি শেয়ার করে লিখেছেন, ছাত্রী সংস্থার কাজগুলো কী কী কেউ বিস্তারিত জানলে আমাদের জানাবেন প্লিজ। অসংবেদনশীল যত কমেন্ট আসে সবগুলো শিবিরের নেতাদের। কোটি টাকার টেস্টি স্ট্রিটের স্যান্ডউইচ আর বিরিয়ানির জোরে এসব টিকটকার, ছাপড়িরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়েছে। আফসোস; আল্লাহ তুমি অন্তত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানটা এদের হাত থেকে রক্ষা কইরো। এই আমাদের চাওয়া।
আম্মারের অবস্থান
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে শুক্রবার রাকসুর জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মারের নির্ধারিত মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
জানা গেছে, রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বর্তমানে পাকিস্তান সফরে আছেন। দেশে ফিরলে জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে রাবি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।



