অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'ইউনূস একটা বিশ্ব বাটপার। ১৮ মাসে দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। দেশের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস করেছে। নিজে চুরি-চামারি করে নিজের সুবিধা নিয়েছে। সবশেষ যাওয়ার তিনদিন আগে বাংলাদেশকে আমেরিকার হাতে বিক্রি করে দিয়ে গেছে।'
সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও সমালোচনা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিস আলমগীর বলেন, 'আমাদের সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে, যখন যে সরকার আসবে তার ভালো কাজের প্রশংসা করা এবং খারাপ কাজের সমালোচনা করা। আমি সেটাই করেছি। ইউনূসের আমলে সমালোচনা করতে গিয়ে আমাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।'
শিশুমৃত্যু ও দুঃশাসনের অভিযোগ
তিনি আরও বলেন, 'এতগুলো শিশু মারা গেছে, এটা ইউনূসের দুঃশাসনের প্রতিফল। তবে শুধু দোষারোপ করলেই হবে না। বর্তমান সরকারকে সমস্যার সমাধানেও কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় এসে অনেকে একই ধরনের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাবে।'
আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও সংঘর্ষ
এদিন আদালত প্রাঙ্গণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবী 'ঢাকা বার সাধারণ আইনজীবী' ব্যানারে মানববন্ধন করেন। চুক্তিটিকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে তারা তা বাতিলের দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য আইনজীবীরা আনিস আলমগীরকে আহ্বান জানান। পরে তিনি সেখানে সংহতি প্রকাশ করে কিছু সময় অবস্থান করেন।
বিএনপি-আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের সংঘর্ষ
মানববন্ধন শেষে আদালত প্রাঙ্গণে কয়েকটি দলে দাঁড়িয়ে ছিলেন আইনজীবীরা। এসময় বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী এসে এই ধরনের কর্মসূচি না করতে বলে তাদের সরে যেতে বলেন। এই নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবী জাকির হাসান (জুয়েল) বলেন, 'গুটি কয়েকজন আইনজীবী আদালতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। সাধারণ আইনজীবীরা তাদের নিষেধ করলে তারা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করে। পরে তারা সরে যায়।' তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা আদালত এলাকায় 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
তবে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, 'আমরা হামের টিকায় গাফিলতি ও আমেরিকার সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছি। সেখানে ৩-৪ জন এসে ধস্তাধস্তি করেছে। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়। আর জয় বাংলা কোনও নিষিদ্ধ স্লোগানও নয়।'
আনিস আলমগীরের জামিন
এর আগে আদালতে সাংবাদিক আনিস আলমগীর তার বিরুদ্ধে থাকা দুদক মামলা থেকে স্থায়ী জামিন পান। তার আইনজীবীর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা দুদকের মামলা থেকে স্থায়ী জামিন এবং ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ ও বিদেশ গমনের অনুমোদিত চেয়ে আলাদা তিনটি আবেদন করেন। আদালত এই আবেদনের দুটি মঞ্জুর করে ব্যাক্তিগত হাজিরা মওকুফ আবেদন নাকচ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। পরে গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি এই মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গত ১১ মার্চ এই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।



