বাংলা নববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী: কৃষক কার্ডসহ নানা প্রকল্পের ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার সমাজের সকল স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য গুণগত উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।” পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন সরকারের যাত্রা ও উন্নয়ন প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার পরিবার কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষক কার্ড চালু করা হবে। “এই কৃষক কার্ড দেশের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে এটি আমাদের প্রত্যাশা,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য ও আশার বার্তা
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তার অনন্য প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে বলা হয়, “এই পহেলা বৈশাখ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের জীবনে ফিরে আসে নতুন এক আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমন পুরনো জীর্ণতা ও বিষাদ পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।”
পহেলা বৈশাখের সাথে এই অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করে বাণীতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের এই স্বর্ণযুগেও কৃষকরা প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে মিল রেখে তাদের ফসল উৎপাদনের সময়সীমা নির্ধারণ করেন।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গণতন্ত্রের শক্তি
দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, সভ্যতা ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা সাধারণত পহেলা বৈশাখের আগমনের মাধ্যমে নতুন করে প্রাণ পায়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী সভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সুতরাং বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।” সংকীর্ণতা ও অহংবোধ কাটিয়ে মানুষের কল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার প্রকাশ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে মজবুত করবে।



