প্রধানমন্ত্রী: সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সম্পদ, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়
প্রধানমন্ত্রী: সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সম্পদ

প্রধানমন্ত্রীর সেনানিবাস বক্তব্য: সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর এক বিশেষ দরবারে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের এক অমূল্য ও অপরিহার্য সম্পদ হিসেবে গণ্য। বেলা সোয়া ১১টার দিকে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানান।

সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে এই বাহিনী যে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে, তা দেশপ্রেমিক জনগণকে গভীরভাবে আশান্বিত করেছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি

তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সেই বিয়োগান্তক ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত দেড় দশকের শাসন ও শোষণের সময় সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বাহিনীকে জনআস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি

এই বিশেষ দরবারে প্রধানমন্ত্রী গত আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও শান্তি রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ করেছে।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

ঢাকা সেনানিবাসের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

দেশপ্রেম ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার নির্দেশনা

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশপ্রেমকে ধারণ করার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অটুট রেখে কাজ করার জন্য সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এই বিশেষ দরবারে ঢাকা সেনানিবাসের সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সেনানিবাসের সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।