শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ: ডিআইএ নিয়োগে ভিড়, পরিদর্শনে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
শিক্ষা খাতের আলোচিত সংস্থা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে (ডিআইএ) নিয়োগ পাওয়ার জন্য কর্মকর্তারা (শিক্ষা ক্যাডারের) মন্ত্রণালয়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় করেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এই সংস্থার কর্মকর্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষক–কর্মচারীদের কাছ থেকে এক মাসের এমপিওর সমান (বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতনের সরকারি অংশ, শতভাগ মূল বেতন) আর্থিক সুবিধা আনার অভিযোগ আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রসঙ্গক্রমে ডিআইএ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি টাকার হিসাব রাখতে ডিআইএ করা হয়েছিল উল্লেখ করে নতুন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিআইএর লোকজন যখনই আমাদের কলেজগুলোয় পরিদর্শনে যান, গেলেই নাকি শিক্ষকেরা “ওয়ান মান্থ এমপিও” দিয়ে দেন। এটা বাংলা বললাম, উনি (অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউনিসেফের প্রতিনিধি) যেন না বোঝেন। ওয়ান মান্থ এমপিও দেন, এ কারণে ডিআইএতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমার কাছ সবচেয়ে বড় ভিড়।’
কর্মকর্তাদের অনুরোধ ও প্রতিক্রিয়া
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, তাঁর সহকর্মীদের কাছে ডিআইএতে বদলির অনুরোধ নিয়ে এলে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। তখন তাঁর কাছে আসার পর প্রশ্ন করলে ওই সব কর্মকর্তা আস্তে করে দূরে সরে যান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই ঘটনা শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, যা নিয়মিতভাবে আলোচনায় আসে।
ডিআইএর কাজ ও অভিযোগের ইতিহাস
দেশের মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পরিদর্শন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। তবে এ সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে প্রায়ই নানা রকমের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে পরিদর্শনের নামে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এটা দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি সমস্যা, যা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য শিক্ষা খাতের সংস্কার ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে নজরদারি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন টেকসই ও সমৃদ্ধ হয়।



