প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগ: অফিসে অর্ধেক লাইট বন্ধ, এসি কমিয়ে ২৫.১ ডিগ্রি
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অফিসে অর্ধেক লাইট বন্ধ, এসি কমালেন

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগ: অফিসে অর্ধেক লাইট বন্ধ, এসি কমিয়ে ২৫.১ ডিগ্রি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে পৌঁছেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি তার অফিস কক্ষের প্রায় অর্ধেক বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে এনেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সকাল ৯টায় অফিসে পৌঁছেই সাশ্রয়ের পদক্ষেপ

রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল প্রায় ৯টা ১০ মিনিটে তার দপ্তরে পৌঁছান। কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই তিনি বিদ্যুৎ খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ লাইট বন্ধ করে দেন এবং এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করেন। কেবিনেট বৈঠক কক্ষে প্রবেশ করার সময়ও তিনি কর্মকর্তাদের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পরপরই তার অফিসের অন্যান্য কক্ষেও লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয় এবং এসির সেটিংস নিম্নমুখী করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরটি সচিবালয়ের ভবন নম্বর ১-এ অবস্থিত, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে বিভিন্ন বিভাগ এবং কেবিনেট বিভাগের কার্যালয় রয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি অফিস, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিং মল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ আরও দক্ষতা ও মিতব্যয়িতার সাথে ব্যবহার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। রুমন আরও যোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকেও দিনের বেলা কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমাতে এবং অফিস ও বাড়িতে পর্দা ও জানালা খুলে প্রাকৃতিক সূর্যালোকের সর্বোত্তম ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এবং আরও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ এসেছে এমন এক সময়ে যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পেট্রোলিয়াম জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রধান উৎসই বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত, যা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হর্মুজ প্রণালীতে ছড়িয়ে পড়েছে, তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।

ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকটে থাকা বাংলাদেশ তার প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যাপকভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল। দেশটি তার বেশিরভাগ পেট্রোলিয়াম জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই অঞ্চল থেকেই আমদানি করে থাকে। এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী উদ্যোগটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সমূহ:

  1. সরকারি দপ্তরে অর্ধেক বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ রাখা
  2. এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা
  3. দিনের বেলা কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমিয়ে আনা
  4. অফিস ও বাড়িতে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা
  5. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ

এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র সরকারি অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।