প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিবেশ ও পানি উন্নয়নে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকে '৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ' এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। পাশাপাশি, ফ্যামিলি কার্ড চালু করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
খাল খনন কর্মসূচি: ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন
নতুন সরকার খুব শিগগির সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে বলে সভায় ঘোষণা করা হয়। ১৮০ দিনের মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় বেশির ভাগ খাল খনন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "জিয়াউর রহমান এই কর্মসূচিকে একটি বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে থেকেই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় সরকার, পানি, দুর্যোগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় মিলে শিগগিরই এই কর্মসূচির শুরুর তারিখ ঠিক করবে।
প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সভার পর সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মে মাস থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে, যদিও এ বছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ সম্ভব না হলেও আগামী বছর এই ঘাটতি পূরণ করা হবে। এই উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের কমিটি
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড চালু করার লক্ষ্যে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
- মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
- উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবগণ
এই কমিটির মূল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন
- প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করা
- নারীদের জন্য বিদ্যমান কর্মসূচিগুলো পর্যালোচনা
- সুবিধাভোগীদের তথ্যভান্ডার প্রণয়নের জন্য ডিজিটাল এমআইএস সুপারিশ
- আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা, যারা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করবেন।
