প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক: তিন অগ্রাধিকার ঘোষণা

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়ে। আজ বুধবার বিকেলে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র চিহ্নিত করে সেগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

অগ্রাধিকারমূলক তিনটি ক্ষেত্র

বৈঠকে সরকারের জন্য অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা
  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন
  • বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মানুষের সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে তারাবি ও ইফতারের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এই অগ্রাধিকারের অংশ।

মন্ত্রিসভার গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন

গত মঙ্গলবার বিকেলে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তারা সরাসরি সচিবালয়ে এসে বেলা তিনটার দিকে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শুরু করেন।

সচিবদের সঙ্গে বৈঠক ও নির্দেশনা

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী সরকারের সব সচিবের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই বৈঠকের বিষয়ে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবদের বলেছেন জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। তাই সংবিধান ও আইন-বিধি অনুযায়ী সেই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, কে, কার কী অ্যাফিলিয়েশন (সম্পৃক্ততা) আছে সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব। এই বক্তব্য সরকারের পেশাদারিত্ব ও মেধাভিত্তিক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা নির্দেশ করে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও কর্মপরিকল্পনা

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অগ্রাধিকারমূলক তিনটি ক্ষেত্র বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা দু-এক দিনের মধ্যে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সরকার ১৮০ দিনের একটি বিস্তৃত অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার পূরণের জন্য সব সচিবের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করা হবে।

বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।