বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কলেজ জীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ! ঢাকা শহরের সব রোগগুলোর মূলে বোধ হয় এই বুড়িগঙ্গার দূষিত পানি। তুরাগেরও একই অবস্থা। শীতলক্ষ্যারও একই অবস্থা শুরু হয়েছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়? এত প্রকল্প হয়, কিন্তু এই বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার জন্য কোনো প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না—সেসব বিষয় দেখতে হবে।
দক্ষিণের জানালা উদ্বোধন ও নাগরিক ভাবনা সেমিনার
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনের একটি রেস্টুরেন্টে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন এবং ‘নাগরিক ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ ও পানিসম্পদ-বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার, নগরপরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান প্রমুখ।
ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য কোনো শহরে গিয়ে থাকব। কারণ, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঘর থেকে বের হলেই দূষিত বাতাস ও ‘পলিউটেড অক্সিজেনের’ সম্মুখীন হতে হয়। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে
তিনি বলেন, আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে অক্সিজেন গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ, আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?
দূষণমুক্ত অক্সিজেন নিশ্চিতের আহ্বান
তিনি বলেন, আরও বেশি দিন যেন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য দূষণমুক্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।



