হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ: প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানালেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সংসদে হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি এই রোগে শিশুদের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে আলোচনা
সংসদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন (গাজীপুর-৪) এর একটি পরিপূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের অনেক শিশু হামে মারা গেছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি যে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’
প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান এবং পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ত্রুটির জন্য এই সমস্যার উদ্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্ববর্তী দুটি সরকারের সময়কালের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গত শাসনামল এবং পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কয়েক বছর ধরে শিশুদের জন্য হামের টিকা আমদানি করা হয়নি।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে একটি মুক্ত, ন্যায্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বছরের পর বছর ধরে সঠিক টিকাদানের অভাবে এই সমস্যা দৃশ্যমান হয়েছে। তবে, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, পরিস্থিতি উদ্ভূত হওয়ার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সমর্থন পেয়েছে।
ইউনিসেফের সহায়তা ও ব্যাপক টিকাদান পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিসেফ এই বিষয়ে বাংলাদেশকে অনেক সাহায্য করেছে। তারা দ্রুত হামের টিকা পাঠিয়েছে, যা আমাদের টিকাদান শুরু করতে সহায়তা করেছে। আমরা প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।’
তিনি হাম পরীক্ষার কিটের স্বল্পতা স্বীকার করে বলেন, সরকার এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘একাধিক কিট ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে। একটি কিট দিয়ে তিনটি পরীক্ষা করা যায়।’ তিনি যোগ করেন যে, কিছু কিট বর্তমানে বিমানবন্দর কাস্টমসে রয়েছে এবং সেগুলো শীঘ্রই মুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংসদের অধিবেশনের সময়সূচি
সংসদের এই অধিবেশনটি বিকাল ৩টা নাগাদ শুরু হয় এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য বরাদ্দ ছিল, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্যে সরকারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি পদক্ষেপের প্রতিফলন দেখা গেছে, যা শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



