উর্দুভাষীদের বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া শোধের প্রক্রিয়া চলমান: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দুভাষী নাগরিকদের বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলের ৪০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া পর্যায়ক্রমে শোধ করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ খাতে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা পরিশোধের প্রক্রিয়াধীন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তথ্য প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ দিন বিকালের শেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেন লিখিত প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, পল্লবী থানার বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার উর্দুভাষী বাংলাদেশি নাগরিকের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা। থাকলে তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এবং হলে তা কত দিনের মধ্যে হবে?
স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জবাবে বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রাধীন পল্লবী থানায় বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য আজ পর্যন্ত কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বিস্তারিত সমীক্ষা করে পল্লবী থানার আওতাভুক্ত বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিদ্যুৎ বিলের বকেয়ার বিস্তারিত তথ্য
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, উর্দুভাষী বাংলাদেশি নাগরিকের বসবাসের ক্যাম্পগুলোতে ২০১৬ সালের পূর্বে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৪০ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৩ দশমিক ৫৭ টাকা বকেয়া ছিল। ২০২২ সালের ২৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে এ খাতে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং এটি পরিশোধের প্রক্রিয়াধীন। এই বরাদ্দের মাধ্যমে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং উর্দুভাষী সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি আশার বার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে।



