সরকারি অফিসে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট বাধ্যতামূলক অবস্থানের নির্দেশ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে জনসেবা নিশ্চিতকরণ ও দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পরিপত্রের মূল উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত হন। যেমন সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ কিংবা ব্যাংক, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে যাওয়া। এর ফলে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন না, যা জনসেবা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪ অনুযায়ী, সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসা-যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দাপ্তরিক অন্যান্য কর্মসূচিও এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এই সময়টুকু বিঘ্নিত না হয়।
যেসব ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল থাকবে
পরিপত্র অনুযায়ী, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। যেমন:
- শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও অনুষদ সদস্য, যাঁরা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই।
- হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদমাধ্যম বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যাঁরা রোস্টার ডিউটি করেন।
- জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এ ছাড়া ভিভিআইপি বা ভিআইপি প্রটোকল প্রদান, আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্র ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না বলে পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।
পরিপত্রের তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা
দাপ্তরিক কাজ ছাড়া অফিস চলাকালে অফিস ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও দক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যা দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
