মৃত ছেলের মুখ দেখানোর মানবিক উদ্যোগ রাজশাহী কারাগারের
মৃত ছেলের মুখ দেখানোর মানবিক উদ্যোগ রাজশাহী কারাগারের

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছেলের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে রাজশাহী কারা প্রশাসন। রবিবার (৩ মে) দুপুরে কারাগারের কঠোর নিরাপত্তায় দুলাল নামে এক বন্দিকে তার মৃত সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ করে দেয় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এ সময় তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত।

কারাবন্দি দুলালের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

কারাবন্দি দুলাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি মাদক মামলায় কারাগারে আছেন এবং বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহ (২৪) শনিবার (০২ মে) নিজ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। পরে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

পরিবারের শোক ও কারাগারের মানবিক সিদ্ধান্ত

আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। সেই খবর কারাগারে থাকা বাবা দুলালের কাছে পৌঁছায়। সন্তানের এমন মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েন তিনিও। এমন পরিস্থিতিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার কথা মোবাইল ফোনে জানান নিহতের ফুফু সেলিনা বেগম। পরিবারের এই আবেদন বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শকের মৌখিক নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মরদেহ দেখার মুহূর্ত

রাজশাহী কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় আব্দুল্লাহর মরদেহ। এসময় বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় ছেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের ফুফুর বক্তব্য

নিহতের ফুফু সেলিনা বেগম বলেন, শনিবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামপুর এলাকায় ট্রাক্টরের চাপায় আব্দুল্লাহ আহত হয়। পরে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, ‘রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের বিস্তারিত জানানো হয়। এ সময় তারা মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে আসতে বলেন। আমরা দুপুরে নিহতের মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে গেলে ভেতর থেকে দুলালকে নিয়ে আসা হয়। এরপরে দুলাল তার মৃত ছেলের মুখ দেখেন। এ সময় সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন।’

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের বক্তব্য

রাজশাহী কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বোন সকালে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারা কোনও আবেদন করেননি। এটা একটা মানবিক বিষয় ছিল। নিহতের মরদেহ কারাগারে প্রধান ফটকে নিয়ে আসতে বলা হয়, তারা নিয়ে আসেন। এরপরে নিহত ছেলের মৃত মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান আসামি দুলাল।’