আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। শনিবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ঈদযাত্রায় সমন্বিত উদ্যোগ
রেল সচিব জানান, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা তৎপর আছি। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করছি, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে। সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজনই, তাই ঈদযাত্রায় সমন্বয়ের কোনো অভাব নেই বলে জানান তিনি।
ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা
ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণ ঠেকাতে বিশেষ নজরদারির কথাও জানান ফাহিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের মধ্যে ট্রেনের ছাদে ওঠার প্রবণতা দেখা যায়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে ছাদে ওঠার প্রবণতা বেশি দেখা যায়, তাই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।
টিকিটবিহীন যাত্রী ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তা
স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, টিকিট ছাড়া যাত্রীরা যাতে স্টেশনে ঢুকতে না পারে সে জন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তারাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। যাত্রী চাপের কারণে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। ঈদের সময় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদার
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন। কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।



