সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর’ পাঁচটি গার্ডার হঠাৎ ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, কারণ তিন বছরের মধ্যে নির্মাণের কথা থাকলেও আট বছরেও কাজ শেষ হয়নি। সর্বশেষ বুধবার (২০ মে) উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
সোমবার ভোররাতে যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাশের তিন ও চার নম্বর পিলারের ওপর থাকা পাঁচটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ভোররাতে বিকট শব্দ শুনে তারা নদীর দিকে ছুটে যান এবং দেখতে পান গার্ডারগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে আছে। এলজিইডি তাহিরপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, এতে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়ম
২০১৮ সালে ৮৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছরের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের চুক্তি হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তমা কনট্রাকশন’ কাজ শুরু করলেও ২০২১ সালের জুনে শেষ করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু কয়েক দফা ব্যয় ও সময় বাড়িয়েও ২০২৬ সাল পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি। এখনো ৩০-৩৫ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করেছে এবং দিনে ও রাতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, “স্বপ্নের সেতু তৈরির আগেই ভেঙে নদীতে পড়ছে। নির্মাণ শেষে চলাচলের সময় যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে জানমালের বড় ক্ষতি হতে পারে। আগেই সতর্কতা নেওয়া উচিত ছিল।” তিনি আরও বলেন, এর আগেও দুই দফায় গার্ডার ভেঙে পড়েছিল।
তদন্ত কমিটি গঠন
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেতুর পূর্ব পাশের নদীর মাঝখানের পিলারের পাঁচটি গার্ডার ভেঙে পড়েছে। কারণ সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”



