ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: উন্নয়নের নামে যন্ত্রণা
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: উন্নয়নের নামে যন্ত্রণা

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক কেবল একটি আঞ্চলিক পথ নয়; এটি দেশের পূর্বাঞ্চল ও সিলেটে যাতায়াতের প্রধান সড়ক। এই মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার মেগা প্রকল্প নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু উন্নয়নের সেই কর্মযজ্ঞ এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ, ধুলার রাজত্ব এবং তীব্র যানজট বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সড়কের শোচনীয় অবস্থা

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ডেমরার সুলতানা কামাল সেতু থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাব, রূপসী ও বরপা পর্যন্ত সড়কের দশা শোচনীয়। বড় বড় গর্তে যানবাহন আটকে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এর ফলে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, যা কেবল যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে না, বরং মহাসড়কটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই এলাকায় হাজার হাজার তৈরি পোশাককর্মী ও শ্রমিকদের প্রতিদিন হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

জনদুর্ভোগ কমানোর অভাব

যেকোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালে কিছুটা সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং জনদুর্ভোগ কমানোর প্রচেষ্টার অভাব নিয়ে। প্রকল্পের কাজ যখন মাসের পর মাস ধীরগতিতে চলে, তখন সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো অন্তত চলাচলের উপযোগী রাখার ন্যূনতম দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থাকে। কিন্তু প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গর্তগুলোর কারণে সড়ক প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। তার ওপর শুষ্ক মৌসুমে উড়ন্ত ধুলাবালু আশপাশের মানুষ ও পথচারীদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উন্নয়ন হতে হবে জনবান্ধব

উন্নয়ন হতে হবে জনবান্ধব। উন্নয়নের নাম করে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে রাখা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে যদি এই খানাখন্দগুলো মেরামত করা না হয়, তবে পরিস্থিতির যে আরও অবনতি ঘটবে, তা সহজেই অনুমেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জরুরি পদক্ষেপ

দুর্ভোগ কমাতে চলমান উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ছয় লেনের মূল কাজ শেষ হতে যত দিনই লাগুক না কেন, সড়কের বর্তমান ভাঙা অংশগুলো অবিলম্বে ইট-পাথর ও পিচ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করতে হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত পানি ছিটানোর মাধ্যমে ধুলার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যেসব জায়গায় কাজ চলছে, সেখানে যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ ও তদারকি টিম নিয়োগ করতে হবে, যাতে দীর্ঘ সময় যানবাহন স্থবির হয়ে না থাকে।

প্রকল্পের কাজ কেন ধীরগতিতে চলছে এবং বিকল্প ব্যবস্থার অভাব কেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট থাকতে হবে।