ইবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৫
ইবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাসে সিনিয়র কর্তৃক জুনিয়রকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত

রোববার (১৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে ঝিনাইদহগামী মধুমতি বাসে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় ও তার বন্ধুরা উচ্চস্বরে গান ও কথাবার্তা বলছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর বিশ্বাসের পাশের সিটে বসা এক শিক্ষার্থী তাদের হৈচৈ থামাতে বলেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিচয় ও সেশন জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা বাড়তে থাকে।

একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ অন্তর বিশ্বাসের গলা চেপে ধরেন এবং হৃদয়ও অন্তরের ওপর চড়াও হন। পরে অন্তর হৃদয়কে ধাক্কা দিলে হৃদয় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারেন। যার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান ফটকে সংঘর্ষ

পরে রাত সাড়ে ৭টার সিডিউলের বাসে ওই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। এ সময় লোকপ্রশাসন ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আগে থেকে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসে করে উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে পৌঁছলে দুপক্ষের মাঝে ফের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই উভয়পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে দুপক্ষের মাঝে পড়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মীর মশাররফ হোসেন ভবন এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের ভেতরে জড়ো হন। এ সময় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের জানালার কাঁচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

উভয়পক্ষের অভিযোগ

বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সহপাঠী অন্তর বিশ্বাসকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়েছে। পরে সহপাঠীকে রক্ষা করতে গেলে আবারও হামলার শিকার হন তারা। অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রথম ঘটনায় তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভুল ছিল। পরে বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে তারা প্রধান ফটকে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। উভয়পক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচারের দাবি জানান।

সমাধান

পরবর্তীতে উভয়পক্ষের প্রতিনিধি ও বিভাগীয় শিক্ষকদের নিয়ে প্রক্টর বিষয়টির সমাধান করেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মারধরের ঘটনার পর রাত আড়াইটা পর্যন্ত উভয়পক্ষের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মীমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ক্ষমা চাওয়ায় এবং ভুক্তভোগীরা ক্ষমা করে দেওয়ায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। উভয়পক্ষই মুচলেকা দিয়েছে।