পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত শাহের তীব্র বক্তব্য
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত; ১৪ এপ্রিল, ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র ৯ দিন বাকি থাকতে মঙ্গলবার রাজ্যে তীব্র নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন প্রধান রাজনৈতিক নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহ বিভিন্ন জনসভায় অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা
সকালে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামে কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুটি দলই দুর্নীতিগ্রস্ত। এই দুর্নীতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালাচ্ছে এখানের সিন্ডিকেটরাজরা।" রাহুল আরও অভিযোগ করেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে নিয়মিত কংগ্রেসকর্মীরা মার খাচ্ছেন এবং লাঞ্ছিত হচ্ছেন।
তিনি কেন্দ্রীয় মোদি সরকার ও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতিরও সমালোচনা করে বলেন, "কেন্দ্রীয় মোদি সরকার যেমন গোটা দেশে শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে, তেমনি এই রাজ্যেও শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।" রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে রাজ্যে জায়গা করে দিচ্ছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিন্ডিকেট দিয়ে রাজ্য পরিচালনা করছেন।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, "তৃণমূল এই রাজ্যে ভোট চুরি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। বিজেপির ঘৃণার সংস্কৃতি ভারতীয় সংবিধানকে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।" তিনি নরেন্দ্র মোদির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকার এবং শিল্পপতি আদানির জন্য বেশি কাজ করার অভিযোগ করেন। রাহুল এরপর মালদার চাঁচল ও মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে দুটি জনসভায় ভাষণ দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাব
দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরের পিংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, "ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এসআইআরের মাধ্যমে ভোটারের নাম কেটে বিজেপির বাংলা দখলের চক্রান্ত তৃণমূল রুখে দেবে। ডিলিমিটেশন বিল এনে বাংলা ভাগের চক্রান্তও রুখে দেবে তৃণমূল। এই বাংলা বাংলাই থাকবে।"
মমতা অভিযোগ করেন, "ভিনরাজ্যে এই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাংলায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী তকমা লাগানো হয়। এটা মানবে না বাংলার মানুষ। এবারের ভোটে তার জবাব দেবে এই বাংলার মানুষ।" তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "ভোটের আগে হয়তো তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্যারালাল মেশিনারি তৈরি করে রাখতে হবে।" মমতা এরপর তমলুক ও হাওড়ার ডোমজুড়-জগৎবল্লভপুরে আরও দুটি জনসভায় যোগ দিয়ে রাজ্য থেকে বিজেপিকে বিদায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
অমিত শাহের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে রোড শো এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে জনসভায় যোগ দিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গকে না ভেঙেই আমরা গোর্খা সমস্যার সাংবিধানিক সমাধান করব। উত্তরবঙ্গে চারটি বড় শহর গড়ে তুলব। দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত একটি মহাসড়ক বানাব।"
অমিত শাহ আরও ঘোষণা করেন, "উত্তরবঙ্গের জন্য ৬০০ বেডের ক্যানসার হাসপাতাল বানাব। উত্তরবঙ্গে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ব। রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব। উত্তরবঙ্গে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি হবে।"
তিনি সিন্ডিকেট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং বলেন, "ইট, বালু, সিমেন্ট কিনতে গেলে আর সিন্ডিকেট ট্যাক্স দিতে হবে না। পদ্মফুলে ভোট দিন, আমরা জয়ী হয়ে ৫ মের পর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব।" অমিত শাহ মমতা সরকারের বিরুদ্ধে বিএসএফকে জমি না দেওয়ার অভিযোগ করেন এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি এরপর মালদার মানিকচক ও গাজোলে দুটি জনসভায় যোগ দিয়ে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়তে ভোট চান।



