শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির রুবেলের জয়, জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন বর্জন
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফলাফল
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (কাঁচি) ৪৮০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা
ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। পোস্টাল ভোটসহ মোট ১২৯ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফল গণনা শেষে এগিয়ে থাকায় বেসরকারিভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে, জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে।’
জামায়াতের নির্বাচন বর্জন
তবে বিকাল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতের প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং জালভোট ও প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশকে জানিয়েও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
উপনির্বাচনের পটভূমি
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে এ আসনে ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদল মারা যান। পরবর্তীতে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সেখানে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



