বগুড়া উপনির্বাচনে কারচুপির হুঁশিয়ারি, নির্বাচন কমিশনার বললেন 'কঠোর ব্যবস্থা'
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ কারচুপি বা দুই নম্বরি ভোটের মতো অনিয়মের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
উপনির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন
নির্বাচন কমিশনার আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় জানান, 'উপনির্বাচন বলে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কমিশন এই উপনির্বাচনকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।' তিনি আরও যোগ করেন, ভোটের দিন কিংবা তার আগে-পরে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ এলে তা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই উপনির্বাচনে দায়িত্ব পালনে কেউ অবহেলা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা
নির্বাচন কমিশনার তাঁর বক্তব্যে বিগত নির্বাচনে কিছু প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অসতর্কতার কারণে সৃষ্ট বিতর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।' ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুন্দর নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বিস্তারিতভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা উল্লেখ করেন:
- প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
- ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ছয়জন করা হবে।
- প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র আনসার সদস্য ও আরও ১০ জন নিরস্ত্র আনসার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নির্বাচনের আগে-পরে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যশোর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, ঢাকার বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থানে তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল, যা নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
- রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম
- বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ
- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ
- রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহজাহান
- নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম (মাসুম)
- আনসার বাহিনীর রাজশাহী রেঞ্জের পরিচালক শফিকুল ইসলাম
- বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ
এই সভাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সেলের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল, যা উপনির্বাচনের প্রস্তুতি ও সমন্বয়কে জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



