ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইতিহাস গড়লেন রুমিন ফারহানা: প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইতিহাস গড়লেন রুমিন ফারহানা: প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেবল রুমিন ফারহানা বিজয়ের মালা পরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে জেলার ইতিহাসে প্রথম সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

বিপুল ভোটে নজিরবিহীন বিজয়

নির্বাচনে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। প্রায় ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধান রুমিন ফারহানার বিজয়কে করেছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন।

অন্যান্য নারী প্রার্থীদের অবস্থা

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে নারী প্রার্থী ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানার পাশাপাশি আমজনতার দলের শরিফা আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আয়েশা আক্তার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের নাহিদা জাহান প্রার্থী হন। তবে তারা কেউই উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জামানত হারানোর মুখে পড়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় রুমিন ফারহানা

সারা দেশে এবারের নির্বাচনে ৮৬ জন নারী প্রার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন মাত্র ৭ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে রুমিন ফারহানা জাতীয় পর্যায়েও বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া সহজ বিষয় নয়।

রাজনৈতিক পটভূমি ও পারিবারিক ইতিহাস

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি দলীয় পদ হারান এবং বহিষ্কৃত হন। তবু তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। এ আসনের সঙ্গে তার পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসও রয়েছে। তার বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও সে নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে বিজয়ের তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, রুমিন ফারহানার এ বিজয় শুধু একটি আসনের জয় নয়; এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের উত্থানের প্রতীক। দীর্ঘদিন পুরুষ প্রাধান্য রাজনীতির মধ্যে তার এ সাফল্য ভবিষ্যতে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মনে করছেন অনেকে। এই বিজয় নারী রাজনীতিবিদদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।