মাদারীপুর-১ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার সংবাদ সম্মেলন
মাদারীপুর-১ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ

মাদারীপুর-১ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা। আজ রোববার সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলার শিবরায়েরকান্দি এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।

নির্বাচনী ফলাফল ও ভোটের ব্যবধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজসিলের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিজয়ী হন। তিনি সরাসরি ভোটে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১১টি এবং পোস্টাল ব্যালটে ১ হাজার ৩৯৮টি ভোট, মোট ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার সরাসরি ভোটে ৬৪ হাজার ২৯১টি এবং পোস্টাল ব্যালটে ২৩৩টি ভোট পেয়েছেন, মোট ৬৪ হাজার ৫২৪টি ভোট। পোস্টাল ব্যালটের ভোটে এগিয়ে জয়ী হন হানজালা, যেখানে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩৮৫টি। নির্বাচনে ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা।

কামাল জামান মোল্লার বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে কামাল জামান মোল্লা বলেন, ‘শিবচরের জনগণ ওয়াদা করে আমাকে বিজয়ী করতে এক লক্ষের বেশি ভোট দিয়েছেন। আমি ভোটারদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের দেওয়া মূল্যবান ভোট আমি রক্ষা করতে পারিনি। আমি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিকার হয়েছি। আমার সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অন্যায় করা হয়েছে। ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। ভোটের দিন আমার কর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছে, যা আমার নেতা–কর্মীসহ ভোটাররা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। বিকেল তিনটার পরে প্রশাসন কোনো কেন্দ্রে আমার কোনো লোককে দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয় নাই। অন্যায়ভাবে লাঠিপেটা করে দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছে। এর কারণটা কী?’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে জামায়াতের মনোনীত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁরা কেউ হাইস্কুল বা কলেজের শিক্ষক ছিলেন না। বেশির ভাগই মাদ্রাসার। এই নীলনকশাটা ছিল গভীর। নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা প্রশাসন নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। আমি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছি। যাঁরা ষড়যন্ত্র করে আমাকে পরাজিত করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে জনগণের দরবারে বিচার দিয়ে রাখলাম। আল্লাহ তাঁদের বিচার করবেন।’

উপস্থিতি ও রাজনৈতিক পটভূমি

এ সময় শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন ও বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক সাজাহান মোল্লাসহ অনেক কর্মী–সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মাদারীপুর-১ আসনে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লাকে প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরে মনোনয়ন না পেয়ে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করলে তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করে দ্বিতীয় দফায় জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।